মনটা তো আমাদের ঘর পালানো। তাই পথকেই আপন লাগে। সেখানেই হাঁটা। সেখানেই টইটই। জিরাতে ইচ্ছে হলে এই টঙ দোকান। কত দুপুর সন্ধ্যা হয়েছে টঙয়ে বসে। আবার সন্ধ্যারা মাঝরাতে। নক্ষত্ররাশির নিচে মুগ্ধতা ভরা এই টঙয়ের মায়া।
আমরা ঐ রকম খাদক প্রজাতি না। খুব একটা বেশি কিছু খাওয়ারও থাকে না টঙয়ে। চা, পান, সিগারেট, বিস্কুট, কলা, রুটি...। তাতেই চলে যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। হয়তো আরও বেশি প্রহর। ঘড়ি দেখে কে কবে আমরা আড্ডা দিতে বসেছি?
কোভিড মহামারীর লকডাউনে সবচেয়ে বেশি মিস করেছি শহরের টঙ দোকানগুলোকে। একটা টঙ মানে একটা শ্রেণিহীন সমাজ। রিকশাওয়ালার পাশে করপোরেট চাকুরীজীবী চা খেতে বসতে বাধ্য। আর টঙয়ের মামারা এক কথায় মহান। তারা এ শহরের নন। মনে হয়, শহরে এসেই নেমে যান চা বানানোর কাজে। এমনি এমনি কোথাও বসতে পারেন না। এই দরিদ্রদেরও ফিটিং দিতে হয়। পুলিশ বা পাড়ার নিয়ন্ত্রক কোনো ভাইদের।
এই টঙগুলো শহরের গল্পের খনি। এখানে ট্রাম্প, পুুতিন, মোদি থেকে ইরান যুদ্ধের খবরও উড়ে আসে। গার্মেন্ট এ ওভার টাইম শেষে কোনো এক মিনারা এখানে হয়তো একটু জর্দা নিতে আসে। আবার কোনো বেঞ্চে বসা ইউসুফ হয়তো তখন টোস্টে কামড় বসায়।
মর্জিনা বলে, আরে ইউসুফ ভাই. . .
খুলে যায় ওঁদের গল্পের ঝাঁপি।
এই বেজান শহরের প্রাণ এই টঙগুলো। আমরা না থাকলেও তোমরা থেকো। খুব ভালো থেকো। তোমরা ঢাকার বুকে দারুচিনি দ্বীপের মতোন সরল মফস্বল। গ্রাম শহরের সমান্তরাল শ্বাস প্রশ্বাস নিবিড় রেখো।
হে টঙ, আমাদের ইট-রড-কংক্রিট মনন তোমার কাছে অনন্ত ঋণী।
এ জাতীয় আরো খবর..