বিশ্বকাপের প্রস্তুতি পর্বের শুরু থেকেই ইরান দলের ওপর বিশেষ আগ্রহ ছিল ফুটবল মহলের। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইরান দলের মূল বেস ক্যাম্প হওয়ার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে। কিন্তু যাতায়াত ও লজিস্টিক প্রক্রিয়া গোছানোর মাঝপথেই সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায় এবং অ্যারিজোনার প্রকল্প ওখানকার মতো বাদ দিতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রাপ্তি এবং টুর্নামেন্টের অন্যান্য লজিস্টিক জটিলতার সুরাহা হওয়ার আগ পর্যন্ত ইরান দল অন্তর্বর্তীকালীন সময় হিসেবে তুরস্কে একটি বিশেষ প্রস্তুতি ক্যাম্প পরিচালনা করেছিল। পরে তুরস্ক থেকেই ইরান দলকে মেক্সিকোর ভিসা দেওয়া হয়। দলটি তুরস্ক থেকে স্পেনে যাত্রাবিরতি দিয়ে গতকাল মেক্সিকোতে পৌঁছায়।
এরইমধ্যে ইরানের ফুটবলার, কোচ ও কয়েকজন সাপোর্ট স্টাফকে বিশ্বকাপ খেলার ভিসা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে দলটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের ভিসা দেয়নি ট্রাম্পের সরকার। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে ফিফার কাছে চিঠিও দিয়েছে ইরান।
বিশ্লেষকদের মতে, শেষ মুহূর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ক্যাম্প করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে মেক্সিকোর সীমানায় মূল বেস ক্যাম্প স্থাপন করার এই সিদ্ধান্তটি মূলত তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যকার রাজনৈতিক বৈরী সম্পর্কের প্রভাব এড়ানোর একটি কৌশলগত বিকল্প। এর ফলে ইরান দল লজিস্টিক ও পরিচালনাগত ঝামেলা অনেকটাই কমিয়ে শান্তিতে মাঠের খেলায় মনোযোগ দিতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে।