দেশের অন্যতম বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ব্যবস্থাপনা, মালিকানা ও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে উত্তপ্ত হলো জাতীয় সংসদ। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ আমলে জোরজবরদস্তি করে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির শেয়ার দখল করেছিল। আর বর্তমান সরকার নতুন চেয়ারম্যান বসিয়ে সেই এস আলম গ্রুপের ফিরে আসার পথই প্রশস্ত করছে। ব্যাংকটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের অর্থনীতি মাটির সঙ্গে বসে যাবে বলে সতর্ক করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা।
অন্যদিকে, সরকারি দলের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, ইসলামী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ বিএনপি সরকারের হাতে শতভাগ নিরাপদ।
পাশাপাশি, ব্যাংকটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যর্থ করে দেশে আর্থিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে বলেও দাবি করেছে সরকার। একই সঙ্গে ব্যাংকটিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ও নির্বাচনী অর্থায়নে ব্যবহারের কড়া সমালোচনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনে কার্যপ্রণালি বিধির ৬৮ বিধি অনুযায়ী একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনায় এই উত্তপ্ত বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।
"দেশের অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা এবং কোটি কোটি গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের শেয়ারসমূহ বৈধ ও প্রকৃত মালিকদের নিকট প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় সকল প্রকার অন্যায়, অযৌক্তিক ও অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এর গুরুত্বপূর্ণ অবদান অব্যাহত রাখার স্বার্থে’"— এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তার এই প্রস্তাবকে সমর্থন জানান জামায়াতের পাঁচজন সংসদ সদস্য। আলোচনায় অংশ নেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মার্জিয়া মমতাজ ও নুরুন্নিসা সিদ্দিকা।
এ জাতীয় আরো খবর..