বিশ্ববিখ্যাত ল্যুভর জাদুঘরে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছেন ফ্রান্সের একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী।
এটি আধুনিক ইতিহাসে অন্যতম বড় জাদুঘর নিরাপত্তা ভাঙার ঘটনা, যা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
রোববার সকালে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় এখনও বিস্তারিত সব তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক বিবৃতিতে জানান:
“ল্যুভর জাদুঘরে নিরাপত্তা ভেদ করে একটি সংগঠিত দল প্রবেশ করে। কিছু মূল্যবান বস্তু লোপাট হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।”
প্যারিস পুলিশ জানায়,
- জাদুঘরের নিরাপত্তা অ্যালার্ম সক্রিয় হলেও, হামলাকারীরা অত্যন্ত দক্ষতায় পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে
- তারা অতি মূল্যবান একটি চিত্রকর্ম বা নিদর্শন নিয়ে গেছে বলে সন্দেহ
- এখনো নিশ্চিত নয়, লুঠ হওয়া জিনিসের মধ্যে মোনালিসা বা অন্য কোনো অমূল্য শিল্পকর্ম রয়েছে কি না
ফরাসি তদন্ত সংস্থাগুলো বলছে,
- এটা পেশাদার ডাকাতচক্রের কাজ, যারা আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে
- জাদুঘরের ভেতরের কেউ তথ্য ফাঁস করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে
- ইউরোপজুড়ে থাকা কালো বাজারে চুরি যাওয়া চিত্রকর্ম বিক্রির পরিকল্পনা থাকতে পারে
ফ্রান্সের সংস্কৃতি মন্ত্রী এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন:
“ল্যুভর শুধু ফ্রান্স নয়, মানবজাতির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক।
এই আঘাত আমাদের জাতীয় গর্বের ওপর আঘাত। দ্রুত তদন্ত ও গ্রেপ্তার নিশ্চিত করা হবে।”
জাদুঘরের প্রায় প্রতিটি করিডোরেই সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে।
পুলিশ সেগুলোর বিশ্লেষণ শুরু করেছে।
ব্ল্যাক-আউট অবস্থায় কিছু ক্যামেরা বন্ধ থাকার খবরও উঠে এসেছে, যা ভিতরের সহযোগিতার ইঙ্গিত দেয়।
ল্যুভরের মতো সুরক্ষিত একটি স্থানে ডাকাতি শুধুই আর্থিক ক্ষতির বিষয় নয় — এটি মানব ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ওপর এক গভীর আঘাত।
বিশ্ববাসী এখন অপেক্ষা করছে—চুরি যাওয়া বস্তু উদ্ধার ও দোষীদের দ্রুত বিচার কবে হবে।
এ জাতীয় আরো খবর..