লিবিয়া থেকে দেশে প্রত্যাবাসনেচ্ছুক ১৭০ অনিয়মিত বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এ সংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো।
মঙ্গলবার বুরাক এয়ারের একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে তারা ঢাকা পৌঁছান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনিয়মিত অবস্থানের কারণে তারা নানা ঝুঁকি ও সমস্যার সম্মুখীন ছিলেন। বাংলাদেশের সরকারের উদ্যোগে নিরাপদ ও সুষ্ঠু প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের বেশীরভাগই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপ গমনের উদ্দেশে মানবপাচারকারীদের প্ররোচণায় ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করেন বলে জানা যায়।
প্রত্যাবাসন কার্যক্রম তদারকি করেন লিবিয়ায় বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মুহাম্মদ খায়রুল বাশার, যারা ডিটেনশন সেন্টারে উপস্থিত থেকে প্রত্যাবাসিতদের বিদায় জানান
রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বৈধ ও নিরাপদ পথই একমাত্র সঠিক উপায়। তিনি প্রত্যেককে দেশে ফিরে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন, সরকারি প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশ গমনের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির আহ্বান জানান।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনিয়মিত প্রবাসী কর্মীদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা সরকারের আন্তর্জাতিক ও মানবিক দায়িত্বের অংশ। বিদেশে অনিয়মিত অবস্থান বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ঝুঁকি বাড়ায়, যেমন কাজের অমানবিক পরিস্থিতি, আইনগত সমস্যা এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি।
সরকার অনিয়মিত প্রবাসীদের দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি বৈধভাবে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও তথ্য প্রদান করবে। বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনগুলোতে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে। অনিয়মিত প্রবাসীদের জন্য নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত কর্মসংস্থান ব্যবস্থার উন্নতি করবে।
লিবিয়া থেকে ১৭০ জনের প্রত্যাবাসন বাংলাদেশ সরকারের মানবিক উদ্যোগ ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে অনিয়মিত প্রবাসী সমস্যার সমাধানে সহায়ক হবে।