বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বহু দেশের রপ্তানির প্রধান বাজার। ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো রপ্তানিনির্ভর প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে দ্রুত এগোচ্ছে। তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রে যে পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের দেশে ততটা রপ্তানি করতে পারে না। এর ফলে এসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের বাণিজ্যঘাটতি তৈরি হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিস্থিতিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর মনে করেন। তাই যেসব দেশ মার্কিন পণ্যে যত শুল্ক আরোপ করে, যুক্তরাষ্ট্রও তাদের পণ্যে একই ভিত্তিতে পাল্টা শুল্ক বসায়। এর সঙ্গে আগের প্রচলিত শুল্কও বহাল থাকে। এই নীতির আলোকে ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল ট্রাম্প পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। পরে অবশ্য কিছু ক্ষেত্রে সংশোধন আনা হয় এবং আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলাদা বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের সঙ্গেও একটি বাণিজ্য চুক্তি হয়।
প্রাথমিকভাবে বলা হয়েছিল, কোনো দেশ মার্কিন পণ্যে যত শতাংশ শুল্ক বসাবে, যুক্তরাষ্ট্রও সেই দেশের পণ্যে সমপরিমাণ শুল্ক আরোপ করবে। তবে ২ এপ্রিলের ঘোষণায় ট্রাম্প জানান, পুরোপুরি সমান শুল্ক আরোপ করলে অনেক দেশ কঠিন অবস্থায় পড়তে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি চীনের কথা উল্লেখ করেন—তার ভাষ্য অনুযায়ী, মুদ্রা কারসাজি ও অন্যান্য বাণিজ্য বাধা মিলিয়ে চীন মার্কিন পণ্যে ৬৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে; যুক্তরাষ্ট্র সেখানে প্রায় অর্ধেক, অর্থাৎ ৩৪ শতাংশ শুল্ক ধার্য করবে। মোটের ওপর অধিকাংশ দেশের ক্ষেত্রে এ ধরনের নীতি অনুসরণ করা হয়। পাশাপাশি সব দেশের পণ্যের ওপর গড়ে ন্যূনতম ১০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়।







