1. [email protected] : admi2019 :
info@deshertvusa.tv +8801979-343434
প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি আন্তজাতিক খেলা বিনোদন প্রবাস আরও
| বঙ্গাব্দ

ট্রাম্প কেন ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতি বাড়ালেন

প্রতিবেদনঃ অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইমঃ 22-04-2026 ইং
  • 5820 বার পঠিত
ad728

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বিকেলে হোয়াইট হাউসে নিজের জাতীয় নিরাপত্তা টিমের সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনার মূল বিষয় ছিল—ইরানকে নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে।

তার ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হয়ে যাচ্ছিল। এদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাকিস্তন যাওয়ার জন্য এয়ার ফোর্স ‍টু প্রস্তুত ছিল। কিন্তু বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়—ইরানের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়া।

 
এর আগে গত কয়েকদিনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে কিছু শর্ত পাঠিয়েছিল, যেগুলো পরবর্তী বৈঠকের আগে মানতে বলা হয়েছিল। কিন্তু কয়েকদিন কেটে গেলেও তেহরান থেকে কোনো জবাব আসেনি। এতে সন্দেহ তৈরি হয় যে, পাকিস্তানে সরাসরি বৈঠকে গেলে আদৌ কোনো অগ্রগতি হবে কি না।
 
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প বৈঠক করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ চেয়ারম্যান ড্যান কেইন এবং সিআইএ পরিচালক জন র‌্যাটক্লিফের সঙ্গে। তবুও তখন পর্যন্ত ইরানের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
 
মার্কিন কর্মকর্তারা তখন পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী আসিম মুনিরকে অনুরোধ করেন, ভ্যান্স এয়ার ফোর্স টুতে চড়ে বসার আগে অন্তত কোনো ধরনের সাড়া যেন পাওয়া যায়। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরও কোনো উত্তর আসেনি।
 
হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইরানের ভেতরের নেতৃত্বে বিভক্তির কারণেই এই নীরবতা। তাদের ধারণা, ইরান এখনো ঠিক করতে পারেনি কী অবস্থান নেবে, বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও মজুতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে।
তবে এসব বাধা থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেছেন—যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবার আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা এখনো আছে। কিন্তু ঠিক কবে হবে, তা অনিশ্চিত।
 
এমন পরিস্থিতিতে সামরিক হামলা আবার শুরু না করে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। এবার তিনি নির্দিষ্ট কোনো শেষ সময়ও উল্লেখ করেননি। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ‘ইরানের সরকার ভেতরে ভেতরে বিভক্ত’। তিনি যুদ্ধের বদলে কূটনৈতিক সমাধান চান, কারণ নতুন করে তিনি অজনপ্রিয় সংঘাতে জড়াতে চান না।
 
তবে আপাতত আলোচনা ভেঙে পড়েছে এবং তাতে নিজের শর্ত অনুযায়ী চুক্তি করতে গিয়ে ট্রাম্প কতটা কঠিন পরিস্থিতির মুখে আছেন, তা স্পষ্ট হয়ে গেছে। 
 
ইরান বারবার প্রকাশ্যেই বলেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ না উঠলে তারা নতুন করে আলোচনায় বসবে না। কিন্তু ট্রাম্প তাতে রাজি নন। মঙ্গলবার সকালেও তিনি বলেন, ‘চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আমরা প্রণালী খুলব না।’
 
এরপর বিকেলের বৈঠকে ট্রাম্প ও তার টিম যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়, যা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। ওয়াশিংটনের আশা, এতে হয়তো ইরান আলোচনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে এবং শীর্ষ নেতা মোজতবা খামেনির অনুমোদন নিতে কিছুটা সময় পেতে পারে, যদিও এর কোনো নিশ্চয়তা নেই বলেই মনে করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
আলোচনায় এখনো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ঝুলে আছে, যেমন—ইরান ভবিষ্যতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে কি না, তাদের মজুত উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কী হবে, আর দেশটির ওপর কোন কোন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হবে।
 
শেষ পর্যন্ত চুক্তি হবে কি না, তা নির্ভর করছে দুই পক্ষ কতটা ছাড় দিতে রাজি তার ওপর। ট্রাম্পের জন্য বড় বিষয় হলো—এমন কোনো চুক্তি না করা, যেটা জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্লান অব অ্যাকশন-এর মতো মনে হয়। ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তি থেকে তিনি ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে এনেছিলেন এবং এটিকে ‘দুর্বল ও বাজে’’ বলে সমালোচনা করেন।
 
গত কয়েক দিনে ট্রাম্প বারবার বলেছেন, তার আলোচনার দক্ষতায় তিনি এর চেয়ে ভালো চুক্তি করতে পারবেন। এমনকি তিনি দাবি করেন, তিনি প্রেসিডেন্ট থাকলে ভিয়েতনাম যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ করতে পারতেন।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

  • Facebook
  • Whatsapp
  • Linkedin
  • প্রিন্ট নিউজ
  • কপি লিঙ্ক
এ জাতীয় আরো খবর..

ad728
ad728
ad728