1. [email protected] : admi2019 :
info@deshertvusa.tv +8801979-343434
প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি আন্তজাতিক খেলা বিনোদন প্রবাস আরও
| বঙ্গাব্দ

পচা ধানের গন্ধ আর সহ্য হচ্ছে না, হাওরের পানিতে দিছি ভাসাইয়া

প্রতিবেদনঃ অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইমঃ 02-05-2026 ইং
  • 4966 বার পঠিত
ad728

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার মানিকপুর হাওরের কৃষক জহিরুল ইসলাম এক সপ্তাহ আগে ৩৫০ মণ ধান মাড়াই শেষে রোদে শুকানোর জন্য জমির পাড়ের খলায় স্তূপ করে রেখেছিলেন। সাত দিন ধরে টানা বৃষ্টির কারণে ধান সেভাবেই রয়েছে। এরই মধ্যে স্তূপ করে রাখা ধান থেকে চারা গজিয়েছে। শুক্রবার ধান পচে দুর্গন্ধ ছড়ায়। কোনো উপায় না দেখে আজ তিনি সেসব ধান হাওরের বৃষ্টির পানিতে ভাসিয়ে দিয়েছেন।

মানিকপুর হাওরের আরেক কৃষক তমিজ উদ্দিনও একই দুঃখের কথা জানান। তিনি বলেন, মাড়াই শেষে ৭০ বস্তা ধান তিনি খলায় রেখেছিলেন। শুকাতে না পেরে ধান পচে নষ্ট হয়ে গেছে। বস্তাসহ সেসব ধান ভাসিয়ে দিয়েছেন হাওরের পানিতে।

জানা যায়, কিশোরগঞ্জে টানা বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের কারণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধিসহ ৯ হাজার ৪৫ হেক্টর বোরো ধানের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে হাওরাঞ্চলের অন্তত ৩০ হাজারের বেশি কৃষক বিপাকে পড়েছেন। এ ছাড়া টানা এক সপ্তাহ বৃষ্টির কারণে কৃষকের কাটা ধান ও শুকানোর জন্য মাড়াই করা যেসব ধান স্তূপ করে রাখা হয়েছিল, সেগুলোও পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। অনেক কৃষক এখন সেসব চারা গজানো ধান হাওরের পানিতে ফেলে দিচ্ছেন। অন্যদিকে ১  হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা রোজের শ্রমিক দিয়ে জমি থেকে কেটে আনা যেসব ধান খলায় বা অন্য জায়গায় স্তূপ করে রাখা ছিল, সেগুলোও নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক কৃষক শ্রমিক ও হারভেস্টার মেশিনের উচ্চমূল্য দিতে না পেরে নয়ন ভাগা (যত দূর দেখা যায়, এর মধ্যে যার যেমন খুশি ধান কেটে নেওয়া) দিয়ে দিচ্ছেন।

নিকলীর মজলিশপুর এলাকার কৃষক কালা মিয়ার ১০ কানি (৩১ শতাংশে ১ কানি) জমির ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে আধা পাকা ছয় কানি জমির ধান তিনি শ্রমিক দিয়ে গত রোববার তাড়াহুড়ো করে কেটে এনেছিলেন। সেই ধান স্তূপ করে রেখেছিলেন। বৃহস্পতিবার কিছুটা রোদ পেলেও ধানমাড়াইয়ের মেশিন না পাওয়ায় ধান সেভাবেই ছিল। ভাবছিলেন, হয়তো আবার রোদ উঠবে। পরে মাড়াই করে রোদে শুকাবেন। কিন্তু শুক্রবার সারা দিন রোদের দেখা মেলেনি। আজ শনিবার ভোর থেকে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। কৃষক কালা মিয়া সেই ধান দেখিয়ে বলেন, ‘কেটে এনে ধান রক্ষা করতে পারলাম না। স্তূপ করে রাখা ধান নষ্ট হয়ে কালো হয়ে গেছে। আরও কিছু ভেসে থাকা ধান ভেবেছিলাম আজকে কাটাব, কিন্তু ১ হাজার ২০০ টাকা করেও শ্রমিক মেলানো যাচ্ছে না। ধান নিয়ে এবার বড় বিপদে পড়েছি আমরা।’

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

  • Facebook
  • Whatsapp
  • Linkedin
  • প্রিন্ট নিউজ
  • কপি লিঙ্ক
এ জাতীয় আরো খবর..

ad728
ad728
ad728